পাংশায় কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ
রাজবাড়ীর পাংশায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, এনজিও পরিচালক, গৃহিনী, মুদি দোকানী, ভ্যান চালক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা যায়, পাংশা উপজেলায় ৪৯ হাজারের বেশি নিবন্ধিত কৃষক থাকলেও ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কংগ্রেসে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে কৃষি বিভাগের আমন্ত্রণে উপস্থিত হন প্রবাসী, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার ৭০ জন ব্যক্তি। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের নামের তালিকা বিশ্লেষণে জানা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন কুয়েত প্রবাসী রাসেল, এনজিও পরিচালক শামীমা নাসরিন, গৃহিনী সাহিদা খাতুন, ভ্যান চালক স্বপন কুমার, মুদি দোকানদার সিরাজুল ইসলাম, সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন এবং কলেজ শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিজনকে ৫০০ টাকা সম্মানী ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। খাবারে ছিল একটি ডিম, দুটি খাসির মাংসের পিস, বিরিয়ানি ও ২৫০ মিলি কোমল পানীয়। অথচ স্থানীয় রেস্টুরেন্টগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব খাবারের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা। ফলে জনপ্রতি অন্তত ২০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
হাজি বিরিয়ানি হাউসের মালিক ইউসুফ জানান, কৃষি কর্মকর্তা তার রেস্টুরেন্ট থেকে প্রতিজনের জন্য ২৮০ টাকা দরে খাবার সরবরাহ করতে বলেন। এতে একটি ডিম, দুটি খাসির মাংস ও একটি পানীয় ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমরা শুধু কৃষককেই দাওয়াত দিয়েছি। কেউ যদি অন্য পেশার হয়, সেটা আমাদের জানা নেই। খাবারের বাজেটের মধ্যেই খরচ করা হয়েছে, আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়।”
তবে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা জানান, খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০০ টাকার কথা তাদের জানানো হয়নি। স্থানীয় বাজারে খাবারগুলোর মূল্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে হওয়ায় তারা বিষয়টিকে অনিয়ম হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় পার্টনার কংগ্রেস। এতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি, প্রযুক্তি ব্যবহার, অধিক ফলন এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রকৃত কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণে কৃষকদের বাদ দিয়ে অন্য পেশার মানুষদের অংশগ্রহণ করানো এবং বরাদ্দকৃত অর্থের অনিয়ম দুঃখজনক ও দুর্নীতির শামিল। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন